জানা যায়, সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় ঢাকা কলেজের বাসে যেতে তারা বাধা দেন এবং সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের শঙ্খনীল নামে একটি বাস ভাঙচুর করে। এর পরপরই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সায়েন্সল্যাবে গেলে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পথচারীসহ ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার (২১), মোহাম্মদ নূর হোসেন (১৮), মোহাম্মদ তুষার (১৯), অনিম (২১), সিজন (১৯), তানিম (২১), দেওয়ান নাঈম (২৩), নিরব (২১) ও আরাফাতকে (২১) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় এলাকায় অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পরপরই একপক্ষ আরেকপক্ষকে ধাওয়া করছে, ইটপাটকেল ছুড়ছে। এছাড়াও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজের সামনের সড়কে ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পরপরই তারা একপক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দেয় এবং ইট-পাটকেল ছুড়ে। বিভিন্ন স্লোগান দেয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সায়েন্সল্যাব মোড়ে সিটি কলেজ শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজের বাসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। অন্যদিকে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। পুরো এলাকায় শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পোহাতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজের সামনের সড়কে ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দেয়। তাদের ইটপাটকেলও ছুড়তে দেখা যায়। পুলিশ ও সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা সরে না গিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ চালিয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ। এতে দু’পক্ষই পিছু হটে। তবে আহত শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বুধবার ঢাকা কলেজের ১৮৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে বাসযোগে শিক্ষার্থীরা একেএকে বের হয়ে যায়। তিনটি বাস সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে পৌঁছালে সিটি কলেজের ছাত্ররা সে বাস গুলো থামিয়ে ছাত্রদের মারধর করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, ১১ শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তবে তাদের ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি।
নিউমার্কেট অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান দৈনিক জনতাকে বলেন, গত মঙ্গলবার সায়েন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের একটি বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে সকালে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা গিয়ে সিটি কলেজে ভাঙচুর চালায়। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তারা সায়েন্সল্যাবের দিকে এগোয়। তখন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে সায়েন্সল্যাবের কাছাকাছি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষ ইটপাটকেল ছুড়ে। সংঘর্ষে জড়ায়।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস দৈনিক জনতাকে বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।